মোঃ পারভেজ আলী , স্টাফ রিপোর্টার
স্থানীয় তাঁত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে প্রতি পিস শাড়ি বুননের জন্য কারখানা মালিকরা শ্রমিকদের ৩০০ টাকা মজুরি দিতেন। তবে সুতার দাম বৃদ্ধির কথা বলে বর্তমানে একই কাজের মজুরি কমিয়ে ২৪০ টাকা করা হয়েছে। এতে একই পরিমাণ শ্রম ও সময় ব্যয় করেও আগের তুলনায় আয় কমে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকরা জানান, তাঁত কারখানায় নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে মজুরি কমে যাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
তাঁত শ্রমিকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ বাড়ার বিষয়টি মালিকদের জন্য বাস্তব সমস্যা হলেও এর পুরো চাপ শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মজুরি কমানোর আগে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।
এ বিষয়ে কয়েকজন তাঁত কারখানা মালিক জানান, বিশ্ববাজার ও স্থানীয় বাজারে রং, সুতা ও প্রয়োজনীয় কেমিক্যালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। এতে তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন। বর্তমান মন্দা পরিস্থিতিতে ব্যয় কমানো ছাড়া অনেকের সামনে বিকল্প নেই।
মালিকদের দাবি, সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প বর্তমানে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ সংকট ও বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় শিল্পটি টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে শ্রমিকদের দাবি, শিল্পের সংকট মোকাবিলায় মালিক ও শ্রমিক উভয়ের স্বার্থ বিবেচনা করে একটি যৌক্তিক মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তা না হলে তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজারো শ্রমিকের জীবন-জীবিকা আরও সংকটে পড়বে।
মন্তব্য করুন