মোঃ পারভেজ আলী , স্টাফ রিপোর্টার
এ ঘটনায় প্রতিকার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সভাপতি পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান।
লিখিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের চরঘুগাট গ্রামের বাসিন্দা এবং বিদ্যালয়ের দাতা সদস্যের সন্তান মিজানুর রহমানকে সভাপতি পদে সর্বসম্মতিক্রমে মনোনীত করেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর পক্ষে উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সভাপতি পদে প্রার্থী আবদুল হাফিজ বহিরাগতদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ভয়ভীতি দেখিয়ে অন্য একটি আবেদনে স্বাক্ষর করিয়ে তা শিক্ষা অফিসে জমা দেন। পরে সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এটিইও আনিসুজ্জামান ও শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী একরামুল হক প্রধান শিক্ষককে চাকরিচ্যুতি ও বিভাগীয় শাস্তির হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে সাদা কাগজে লিখিয়ে নিয়ে আগে জমা দেওয়া আবেদনটি ফেরত নিতে প্রধান শিক্ষককে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ফোনে অভিযোগকারীকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিং সম্বলিত একটি মেমোরি কার্ডও জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী মিজানুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনে সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। একই সঙ্গে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিরা যাতে অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এটিইও আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি ওই ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকলেও কমিটি গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে কিছুই জানি না। ওই সময়ে আমি অফিসিয়াল প্রশিক্ষণের জন্য ছুটিতে ছিলাম। ছুটিতে থাকা অবস্থায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নাম জড়ানো হয়েছে।”
বেলকুচি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা ইয়াছমিন বলেন, “চরঘুগাট বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির জন্য দুই পক্ষ থেকে দুটি আবেদন পাওয়া গিয়েছিল। দুই পক্ষকেই প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র জমা দিতে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে নোটিশ করা হয়। একটি পক্ষ বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারলেও অন্য পক্ষ তা না পারায় তাদের আবেদন তুলে নিয়ে গেছে।”
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, “চরঘুগাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আগামী শিক্ষা কমিটির সভায় বিষয়টি উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন