খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
একটানা তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবনের মধ্যে অবশেষে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে বৃষ্টি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রোববার বিকেল থেকে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কিছুটা কমে স্বস্তি ফিরলেও, একই দিনে দেশের অন্তত সাত জেলায় বজ্রপাতে ১৪ জনের প্রাণহানির মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
বৃষ্টিতে স্বস্তি, তবে ভোগান্তিও
রোববার বিকেলের পর রাজধানীর আকাশে জমতে থাকে কালো মেঘ। দিনভর ভ্যাপসা গরমের পর হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনে শুরু হয় দমকা হাওয়া, পরে তা রূপ নেয় ভারী বর্ষণে। বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমকানোর সঙ্গে কয়েক দফা বৃষ্টিতে নগরজীবনে স্বস্তি ফিরলেও তৈরি হয় তাৎক্ষণিক ভোগান্তি।
অফিস শেষে বাড়ি ফেরা মানুষ হঠাৎ বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েন। অনেকে আশ্রয় নেন সড়কের পাশের দোকান, শপিং কমপ্লেক্স কিংবা ভবনের নিচে। ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও হকারদের দ্রুত পসরা গুটিয়ে নিতে হয়। কোথাও কোথাও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
তবে টানা গরমের পর এই বৃষ্টি বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করেছে।
বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু গাইবান্ধায়
ঝড়-বৃষ্টির এই দিনে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হয়ে দেখা দিয়েছে বজ্রপাত।
দেশের বিভিন্ন জেলায় হতাহতের চিত্র—
গাইবান্ধা: ৫ জন (শিশুসহ) নিহত
ঠাকুরগাঁও: ২ জন নিহত
সিরাজগঞ্জ: ২ জন নিহত
জামালপুর: ২ জন নিহত, ৪ জন আহত, ৫টি গরু মারা গেছে
পঞ্চগড়: ১ জন নিহত, ২ জন আহত
নাটোর: ১ জন নিহত
বগুড়া: ১ জন নিহত
অধিকাংশ নিহত ব্যক্তি মাঠে কাজ করা কৃষক বা গ্রামীণ শ্রমজীবী ছিলেন। খোলা মাঠে অবস্থান করায় তারা বজ্রপাতের ঝুঁকিতে পড়েন।
সিরাজগঞ্জে পৃথক ঘটনায় দুইজন নিহত
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে মাঠে ধান স্তূপ করার সময় বজ্রপাতে হোসেন আলী সেখ (২৫) গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামে বজ্রপাতে আবদুল হামিদ (৫০) মারা যান।
অন্যান্য জেলার চিত্র
গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলায় নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পৃথক ঘটনায় এক নারীসহ দুইজন মারা যান।
জামালপুরে বজ্রপাতে দুইজন নিহত হওয়ার পাশাপাশি চারজন আহত হন এবং পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়।
পঞ্চগড়ে এক চা-শ্রমিক, নাটোরে এক ধানকাটা শ্রমিক এবং বগুড়ায় এক কৃষক বজ্রপাতে প্রাণ হারান।
তাপপ্রবাহে সাময়িক বিরতি
গত এক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকায় কয়েক ঘণ্টায় ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই বৃষ্টি তাপপ্রবাহের সম্পূর্ণ অবসান নয়, বরং সাময়িক স্বস্তি।
রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রাঙামাটিতে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দিনাজপুর ও শ্রীমঙ্গলে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন