খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার প্রান্তিক জনপদ টেপাখড়িবাড়ি যেন এক অন্তহীন বেদনার নাম। যতদূর চোখ যায়—ধুধু বালুচর আর বিস্তীর্ণ পানির রাজ্য। আধুনিকতার ছোঁয়া এখানে এখনো অধরা; প্রকৃতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করাই এখানকার মানুষের নিয়তি।
প্রতি বছর বর্ষা এলেই তিস্তা নদী ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। পাহাড়ি ঢলে ভেসে যায় ফসল, ঘরবাড়ি আর মানুষের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন। হাজারো মানুষ আশ্রয় নেয় তিস্তার ডানতীর রক্ষা বাঁধে, যেখানে মানুষ ও গবাদিপশুর একসাথে ঠাঁই নেওয়ার করুণ দৃশ্য চোখে পড়ে। আবার খরার সময় সেই নদীই ফেলে যায় বিস্তীর্ণ তপ্ত বালুচর, যেখানে জীবিকা নির্বাহ হয়ে ওঠে দুঃসহ।
প্রায় ৩১ দশমিক ৭১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ইউনিয়নে বসবাস করে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। নদীর উত্তর পাড়ের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা প্রশাসনিক সেবা পেতে তাদের পাড়ি দিতে হয় কয়েক কিলোমিটার বালুচর, এরপর উত্তাল নদী।
স্থানীয় শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, “তিস্তা পাড়ে জন্ম যেন আজন্ম পাপ।” স্কুল শিক্ষিকা খাদিজা বেগমের ভাষায়, “এই কষ্ট বোঝাতে হলে বানের সময় এখানে এসে দাঁড়াতে হবে।” শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে পড়ছে—বর্ষা এলেই বন্ধ হয়ে যায় তাদের শিক্ষা কার্যক্রম।
দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষ একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন পরিষদ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মৌলিক সেবার দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবায়ন আজও অধরা।
তিস্তা পাড়ের মানুষের একটাই প্রশ্ন—তাদের এই অন্তহীন কষ্টের কি কোনো শেষ নেই? নাকি প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই কাটিয়ে দিতে হবে পুরো জীবন?
মন্তব্য করুন