খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকদিনের দমকা হাওয়া ও ভারী বর্ষণে সয়াবিন গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। অনেক জমিতে হাঁটুসমান পানি জমে ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে মৌসুমের প্রধান অর্থকরী ফসল হারানোর শঙ্কায় চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন হাজারো কৃষক।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশে উৎপাদিত মোট সয়াবিনের প্রায় ৭০ শতাংশই এই উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে এলাকায় অধিকাংশ কৃষকই সয়াবিন চাষের ওপর নির্ভরশীল। গত দুই দশকে এ অঞ্চলে সয়াবিন চাষ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে প্রায় ৭ হাজার ৩শ’ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ করা হয়েছে। তবে কালবৈশাখীর ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ইতোমধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে অবশিষ্ট ফসলও পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে উপকূলীয় চরলক্ষী, মিয়ারহাট, কানি বগার চর, চরবংশী, জালিয়ার ও বেড়িবাঁধের বাইরের এলাকাগুলোতে।
ঝাউডগী গ্রামের কৃষক হারুনুর রশিদ বলেন, “ধার-করজ করে ২ একর জমিতে সয়াবিন চাষ করেছিলাম। ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে ঝড় আর শিলাবৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবো, সেই চিন্তায় আছি।”
রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। তিনি বলেন, “যে ফসল প্রায় ৮০ ভাগ পেকে গেছে, তা দ্রুত কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত রায়পুরের কৃষকরা এখন সরকারের জরুরি সহায়তা, প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন