মোঃ পারভেজ আলী , স্টাফ রিপোর্টার
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি ও টি-আর প্রকল্পের আওতায় তালুকদার মেটুয়ানী গ্রামের একটি মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য এরশাদ আলম।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। রাস্তা নির্মাণের জন্য নতুন করে বালু বা মাটি আনা হয়নি। বরং পুরোনো রাস্তার সামান্য মাটি কেটে সমান করে দেওয়াকেই কাজ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এতে বরাদ্দের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, “ভেবেছিলাম প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটি ভালো হবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো কাজ হয়নি। রাস্তার শুরুতে আগের মাটি একটু টেনে সমান করা হয়েছে। নতুন বালু বা মাটি কিছুই দেওয়া হয়নি। এ কারণে আমরা ভোগান্তিতে আছি।”
ধুকুরিয়া বেড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হাজী মো. ফজলুল হক মন্ডল বলেন, “আমরা দেখেছি, রাস্তার জন্য বালু বা নতুন মাটি কিছুই আনা হয়নি। রাস্তার মাটি কেটে হালকা সমান করে দেওয়া হয়েছে। এতে বরাদ্দের অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়নি বলে আমাদের মনে হচ্ছে। আমরা বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছি। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে প্রকল্পের অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
অভিযোগের বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য এরশাদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, “তালুকদার মেটুয়ানী গ্রামের একটি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্পের কাজ নিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকল্পের প্রকৃত কাজের পরিমাণ নির্ধারণ করে সরকারি বরাদ্দের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় নিশ্চিত করা হোক।
মন্তব্য করুন