খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
স্থানীয়রা জানান, সড়কটি কাঁচা ও নিচু হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে গভীর কাদায় পরিণত হয়। এতে করে পায়ে হেঁটে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থীকে জুতা হাতে নিয়ে কাদা ভেঙে স্কুলে যেতে হয়, আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বৃষ্টির দিনে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রতিদিন শিশুদের স্কুলে পাঠানো এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ছোট শিক্ষার্থীরা কাদা ও পানি পার হতে গিয়ে প্রায়ই পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের এই দুরবস্থার কারণে জরুরি রোগী পরিবহন ও কৃষিপণ্য আনা-নেওয়াতেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে, যার ফলে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
নিমগাছি এলাকার বাসিন্দারা জানান, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির কোনো টেকসই সংস্কার না করায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম এলেই পুরো এলাকা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তারা দ্রুত স্থায়ীভাবে সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, “নিমগাছি স্কুলসংলগ্ন সড়কটির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বর্ষা মৌসুমের কারণে সাময়িকভাবে সমস্যা বেড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল খালেক পাটোয়ারী জানান, “এলাকাবাসীর ভোগান্তির বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চলাচলে সমস্যা হওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বের বিষয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের মতে, এই সড়কটি শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়, বরং শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। তাই বর্ষা মৌসুমের আগেই স্থায়ী সমাধান না হলে প্রতি বছর একই দুর্ভোগের শিকার হতে হবে এলাকাবাসীকে।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত টেকসই উন্নয়ন ও পাকা সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে এই দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটানো হোক, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত থাকে।
মন্তব্য করুন