খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
কাজের অগ্রগতি প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছালেও এখনো রাস্তার মাঝখানে ও পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ১৩টি বৈদ্যুতিক খুঁটি। ফলে উন্নয়নের সুফল পাওয়ার পরিবর্তে চরম দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নবনির্মিত পাকা সড়কের বিভিন্ন অংশে বিদ্যুতের খুঁটিগুলো রাস্তার মাঝখানে কিংবা একেবারে গা ঘেঁষে অবস্থান করছে। বিশেষ করে সড়কের বাঁকগুলোতে খুঁটি থাকায় ভারী যানবাহন চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
রায়গঞ্জ উপজেলা সদর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন,
“দিনের বেলা কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও রাতের অন্ধকারে এই খুঁটিগুলো মরণফাঁদে পরিণত হবে। সড়কে কোনো লাইট বা সতর্কতামূলক চিহ্ন না থাকায় অপরিচিত চালকদের জন্য এটি বড় ঝুঁকি।”
এই সড়ক দিয়ে কাজিপুর থেকে তাড়াশগামী ভ্যানচালক মুক্তার হোসেন বলেন,
“দ্রুত খুঁটিগুলো সরানো না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার বলেন,
“উন্নয়ন কাজ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। রাস্তা নির্মাণের আগেই বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সমন্বয় করে খুঁটি সরানো উচিত ছিল।”
ধানগড়া বাজারের ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানান,
“খুঁটি রেখে রাস্তা নির্মাণ করলে তা টেকসই হবে না। ভবিষ্যতে খুঁটি সরাতে গেলে আবার নতুন করে খরচ হবে, যা সরকারের জন্য অপচয়। এছাড়া বাজার এলাকায় স্থায়ী যানজটের আশঙ্কাও রয়েছে।”
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন,
“রাস্তা প্রশস্ত করার আগে বিদ্যুৎ বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা একটি ডিমান্ড নোট পাঠিয়েছে, তবে এতে কিছু ত্রুটি থাকায় এখনো অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো সম্ভব হয়নি। সঠিক ডিমান্ড নোট পাওয়া গেলে ‘শিফটিং চার্জ’ প্রদান করে খুঁটি অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের সময়সীমা দ্বিতীয় দফায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন,
“ডিমান্ড নোট অনুযায়ী টাকা জমা না দেওয়ায় খুঁটি অপসারণের কাজ শুরু করা যায়নি। অর্থ জমা পেলেই ঠিকাদারের মাধ্যমে খুঁটি সরানো হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন কাজ যদি জননিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে পরিচালিত হয়, তবে সেই উন্নয়নের সার্থকতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে রাস্তার মাঝখানে থাকা খুঁটিগুলো অপসারণ করে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন