খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সলঙ্গা হাট উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী হাট। প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার হাট বসার কারণে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ এবং শত শত পণ্যবাহী যানবাহন এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু সেতুর পশ্চিম পাশের প্রবেশমুখে বড় একটি গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
প্রতিদিন ভ্যান, রিকশা, ভটভটি, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ছোট-বড় যানবাহন গর্তটি অতিক্রম করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। হাটের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গর্তের কারণে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থায়ী থাকে। এছাড়া পণ্যবোঝাই ভ্যান ও ভটভটি গর্তে পড়ে উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী কয়েকজন চালক ও পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন বড় গর্ত দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকলেও তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ সময়ে কষ্ট করে চলাচল করা গেলেও সোমবার ও বৃহস্পতিবার হাটের দিনে এখানে চলাচল করা একপ্রকার নরকযন্ত্রণায় পরিণত হয়।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক ও সেতুর বেহাল অবস্থার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী চালকেরা দ্রুত গর্তটি ভরাট করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “সেতুটি রায়গঞ্জ উপজেলার মধ্যে হলেও এর তদারকির দায়িত্ব উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের অধীনে। বিষয়টি তাদের অবগত করা হয়েছে।”
তবে এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সেতুর প্রবেশমুখের গর্ত সংস্কার করে নিরাপদ ও স্বাভাবিক যাতায়াত নিশ্চিত করবে।
মন্তব্য করুন