খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, মারপিট ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়েরের পাঁয়তারার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও সাংবাদিক আইয়ুব আলী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের কয়ড়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পল্লী চিকিৎসক আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সুইটি খাতুনের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি এলাকায় নিজের প্রভাব ধরে রাখতে প্রতিবেশীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গ্রামের পায়ে হাঁটার রাস্তার পাশে গরুর ঘাস খাওয়া ও গোবর রাখাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুইটি খাতুনের কথা-কাটাকাটি ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় গালিগালাজ ও হুমকি-ধামকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২২ আগস্ট রাস্তার পাশে গোবর রাখাকে কেন্দ্র করে আঃ রাজ্জাক ও তার স্ত্রী রঞ্জনা খাতুনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, পরদিন ২৩ আগস্ট পল্লী চিকিৎসক আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুইটি খাতুনসহ কয়েকজন রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় বাড়িতে আঃ রাজ্জাককে না পেয়ে তার বোন বিধবা জায়েদা খাতুনকে সামনে পেয়ে সুইটি খাতুন লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে মাথা ফেটে দেয়। পরে স্থানীয়রা জায়েদা খাতুন কে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
এ ঘটনায় জায়েদা খাতুনের বড় ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে রায়গঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর তাদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে ভর্তির নাটক সাজিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের পাঁয়তারা করা হচ্ছে।
তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুইটি খাতুন ও তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
সাংবাদিক পরিবার প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
মন্তব্য করুন