খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৩য় আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম পৃথক মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) গোলাম সরোয়ার শফিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—উল্লাপাড়া উপজেলার ভায়ড়া গ্রামের মোক্তার সরকারের ছেলে আল-আমিন এবং সলঙ্গা থানার আংগারু গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে নাসির উদ্দীন।
মাদক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার হোসেনপুর পুঠিয়াবাড়ি মহল্লার আনোয়ার হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (৪৩) এবং দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর থানার বাসুদেবপুর মাস্টারপাড়া গ্রামের হবিবুর রহমানের স্ত্রী মালা খাতুন (৫৬)।
মামলার অভিযোগপত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৫ নভেম্বর দুপুরে বাড়ির পাশে বন্ধুদের সঙ্গে খেলছিল শিশু ছাইম। এরপর সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করেন। পরে ২৭ নভেম্বর সকালে স্থানীয় একটি পুকুরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শিশু ছাইমের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর নানা আলীম উদ্দিন বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ মামলার দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শহরে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় পুলিশ জানতে পারে, হোসেনপুর তারকাটা মিল এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তি মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করছেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালালে এক যুবক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে তাকে আটক করে শরীর তল্লাশি চালিয়ে ২০টি বুপ্রেনরফিন ইনজেকশন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক ইশানুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই মামলায় সোহেল রানাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অনাদায়ে তাকে আরও পাঁচ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অপরদিকে, ২০২২ সালের ২২ জুলাই সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন মহাসড়কে দায়িত্ব পালনকালে র্যাব সদস্যরা জানতে পারেন, সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের মনসুর আলী স্টেশন এলাকায় এক নারী হেরোইন ক্রয়-বিক্রয় করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে মালা খাতুনকে আটক করা হয়। তার শরীর তল্লাশি করে ১২০ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত মালা খাতুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
মন্তব্য করুন