খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
মঙ্গলবার ভোর থেকেই সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে শত শত খামারি এবং সাধারণ বিক্রেতারা তাদের পালিত পশু নিয়ে চান্দাইকোনা হাটে আসতে শুরু করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাট প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকা পশুর আমদানিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। হাটে ছোট, মাঝারি ও বড়—সব ধরনের গরুর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ছাগলের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মাঝে বিরাজ করছিল উৎসবের আমেজ।
হাটে আসা সাধারণ ক্রেতা মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, পশুর সমাগম বেশি থাকায় তারা যাচাই-বাছাই করে পছন্দের পশু কেনার সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে আশানুরূপ দাম পেয়ে বিক্রেতা ও স্থানীয় খামারিদের মুখেও ছিল স্বস্তির হাসি। শেরপুর থেকে আসা খামারি চিত্তরঞ্জন বাবু জানান, ঈদুল আজহার শেষ হাটে তিনি গরুর ভালো দাম পেয়েছেন। এজন্য তিনি অত্যন্ত খুশি।
চান্দাইকোনা পশুর হাটটি ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের একদম পাশে অবস্থিত হওয়ায় প্রতি হাটবারেই যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। তবে এবারের হাটে সেই চিত্র ছিল ভিন্ন। মহাসড়ক সচল রাখা এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে তৎপর ছিল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ও হাটিকুমরুল হাইওয়ে পুলিশের সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে হাটের দিন মহাসড়কে কোনো বড় ধরনের যানজটের সৃষ্টি হয়নি। পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল দেওয়ার পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তাড়াশ উপজেলার পৌসার এলাকা থেকে গরু নিয়ে আসা ভটভটিচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, এবার রায়গঞ্জ থানা ও হাটিকুমরুল হাইওয়ে পুলিশ ব্যাপক সহযোগিতা করেছেন। মহাসড়কে সাধারণ মানুষের চলাচলে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করায় কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই এবার ঈদের হাট শেষ হয়েছে।
ঢাকা থেকে আসা গরুর ব্যাপারী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ, পকেটমার ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্য রোধে পুলিশের বিশেষ নজরদারি এবং সুব্যবস্থাপনার কারণে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে লেনদেন করতে পেরেছেন।
ইজারাদার কমিটির সভাপতি মোঃ শামসুল হক খান বলেন, এবার গরু-ছাগল আমদানিতে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। প্রচুর কেনাবেচা হয়েছে। মহাসড়কে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক সহযোগিতা করেছে। কোনো দুর্ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ক্রেতা-বিক্রেতারা বাড়ি ফিরতে পেরেছেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক বলেন, হাটের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইজারাদার কর্তৃপক্ষের যে ধরনের ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যানজট নিরসন ও পথচারীদের পারাপারে তাদের কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়েনি।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “হাটের অবস্থান মহাসড়কের পাশে হওয়ায় আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ ছিল সড়কে যোগাযোগ স্বাভাবিক রাখা এবং হাটকেন্দ্রিক যেকোনো অপরাধ প্রতিরোধ করে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের কঠোর নজরদারির কারণে কোনো দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এবারের হাটের বেচাকেনা শেষ হয়েছে।”
হাটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যাপারী, স্থানীয় খামারি ও সাধারণ ক্রেতারা।
মন্তব্য করুন