খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
শনিবার (৩০ মে) তিনি উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা গ্রামের বাসিন্দা আলী হোসেনের বাড়িতে পৌঁছান। পেশায় স্কুলশিক্ষক ওয়াং ইউলাইয়ের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তাঁকে এক নজর দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ ভিড় করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে ওয়ার্ল্ড টক অ্যাপের মাধ্যমে আলী হোসেনের মেয়ে আনিকা আক্তারের সঙ্গে ওয়াং ইউলাইয়ের পরিচয় হয়। প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। দীর্ঘ সাত মাস অনলাইনে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার পর এক মাসের ভিসায় বাংলাদেশে আসেন তিনি।
ওয়াং ইউলাই জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী আনিকা আক্তারকে বিয়ে করতে চান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর কিছুদিন শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করবেন। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে চীনে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
তিনি বলেন, “আমি বৈধভাবে বিয়ে করতে বাংলাদেশে এসেছি। সব ধরনের আইনগত প্রক্রিয়া মেনেই বিয়ে সম্পন্ন করতে চাই। ভবিষ্যতে আমরা একসঙ্গে সুখী জীবন গড়তে চাই।”
আনিকা আক্তার জানান, অনলাইনে পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পারিবারিক সম্মতিতেই তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন অনলাইনে কথা বলার মাধ্যমে আমরা একে অপরকে বুঝতে শিখেছি। এখন আমরা আমাদের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিণতি দিতে চাই।”
রোববার (৩১ মে) দুপুরে আনিকা আক্তার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মির্জাপুর থানায় সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ওয়াং ইউলাই। এ সময় তিনি নিজের পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করেন।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, চীনা নাগরিক বৈধ পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা বা পরামর্শের প্রয়োজন হলে পুলিশ সহযোগিতা করবে।
স্থানীয়দের মতে, অনলাইনে পরিচয় থেকে শুরু হওয়া এই প্রেমের গল্প এখন মির্জাপুরজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে দুই দেশের দুই সংস্কৃতির মানুষের এই সম্পর্ক নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলেও মনে করছেন অনেকে।
মন্তব্য করুন