খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে উপজেলা পরিষদ, থানা, হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হয় স্থানীয়দের। কিন্তু প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে সড়কটির সংস্কারকাজ স্থবির থাকায় জনভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের বিভিন্ন অংশে ইটের খোয়া ফেলে রেখে কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও খোয়া সরে গিয়ে রাস্তা অসমতল হয়ে পড়েছে। এতে করে যানবাহন চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় ইজিবাইকচালক মজিদ মিয়া বলেন, “এই সড়কে চলাচল মানেই জীবনের ঝুঁকি। সামান্য ভুল হলেই গাড়ি উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
রিকশাচালক সুজন সরকার জানান, “প্রতিদিনই কেউ না কেউ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বৃষ্টি হলে অবস্থা আরও খারাপ হয়—রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।”
তেলিজানা আলিম সিনিয়র মাদ্রাসার এক শিক্ষক বলেন, “এটি এলাকার প্রধান সড়ক হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে ভোগান্তি বাড়ছে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেলসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি ও সংকটের কারণে কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার আশ্বাসও দিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) রায়গঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “উপকরণের সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তবে ইতোমধ্যে কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।”
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন