খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
জানা যায়, ২০১৮ সালে সিরাজগঞ্জ শহরের মালশাপাড়া এলাকায় যমুনা নদীর পশ্চিম পাড় ঘেঁষে ক্রসবাঁধ-৩ (চায়নাবাঁধ-৩) এলাকায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রায় ৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে ৮টি টাওয়ার স্থাপন করে ২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, টাওয়ারগুলো স্থির দাঁড়িয়ে থাকলেও সেগুলোর পাখা ঘুরছে না। ফলে কোনো ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। এতে প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ নেসকোর সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজ রহমান বলেন, “প্রকল্পটি এখনো আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।”
নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১) রফিকুল ইসলামও একই সুরে বলেন, “আমি নতুন দায়িত্বে এসেছি। প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে কিনা, তা আমার জানা নেই।”
অন্যদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান প্যান এশিয়া পাওয়ার সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মাসুদ দাবি করেন, “প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।” তবে উৎপাদনের পরিমাণ সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
তথ্য জানতে চাইলে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পোদ্দার বিষয়টি বগুড়া বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর দিকে ঠেলে দেন। কিন্তু বগুড়া বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান আবার বলেন, এ সংক্রান্ত তথ্য সিরাজগঞ্জ নেসকোর কাছেই রয়েছে।
এভাবে একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের তথ্য নিয়ে চলছে ধোঁয়াশা ও লুকোচুরি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশায় প্রকল্পটি নেওয়া হলেও দীর্ঘদিনেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সরকারি অর্থের অপচয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রকল্পটি চালু করা না গেলে বা এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের উদ্যোগে জনআস্থা কমে যাবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছ তদন্ত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন