খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের তিন নান্দিনা গ্রাম। দুই পাশে ফুলজোড় নদী আর একপাশে বিস্তীর্ণ বোয়ালিয়ার চর বিলবেষ্টিত এ জনপদটি যেন একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ফুলজোড় নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ না হওয়ায় হাজারো মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে দুর্ভোগ। এখনো নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার অন্যতম শিক্ষিত গ্রাম হিসেবে পরিচিত তিন নান্দিনায় একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। গ্রামের অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তবুও একটি সেতুর অভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে পুরো জনপদ।
প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চাকরিজীবী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় নদী পার হতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। জরুরি রোগী পরিবহনেও দেখা দেয় চরম ভোগান্তি।
সরেজমিনে দেখা যায়, তিন নান্দিনা ও সংলগ্ন বোয়ালিয়ার চর বিল এলাকায় ধান, পাট, সবজি ও বিভিন্ন কৃষিপণ্য ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হয়। কিন্তু উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা সহজে এসব পণ্য বাজারজাত করতে পারেন না। ফলে অনেক সময় কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন।
একজন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অনেক কষ্ট করে ফসল ফলাই। কিন্তু নদী পার হয়ে বাজারে নিতে যে খরচ হয়, তাতে লাভের বড় অংশই শেষ হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে অনেক সময় বাড়িতেই কম দামে ফসল বিক্রি করতে হয়।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “নির্বাচনের সময় প্রায় সব জনপ্রতিনিধিই সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোট শেষ হলে আর কোনো খোঁজ থাকে না। বছরের পর বছর আমরা শুধু আশ্বাসই শুনে আসছি।”
সাহেবগঞ্জ বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, একটি সেতু নির্মিত হলে শুধু তিন নান্দিনা নয়, আশপাশের এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ব্যাপকভাবে গতিশীল হবে। কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের ভোগান্তি কমবে।
তিন নান্দিনা রশিদা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা একটি সেতুর দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি। কিন্তু ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আমাদের সেই দাবি পূরণ হয়নি।”
নলকা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বলেন, “তিন নান্দিনা গ্রামটি কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে এখানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।”
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. রবিউল আলম বলেন, “ফুলজোড় নদীর ওপর সেতু নির্মাণের জন্য দুটি প্রকল্পের আওতায় প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সাহেবগঞ্জ-কেসি ফরিদপুর এলাকায় একটি সেতুর কাজ চলমান থাকায় তিন নান্দিনা এলাকার সেতুর গুরুত্ব কিছুটা কম বিবেচিত হচ্ছে।”
তবে এলাকাবাসীর দাবি, একটি সেতু শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও ন্যায্য অধিকার। দ্রুত ফুলজোড় নদীর ওপর সেতু নির্মাণের মাধ্যমে তিন নান্দিনা গ্রামের মানুষের ৫৪ বছরের দুর্ভোগের অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য করুন