খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
পুলিশ সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রায়গঞ্জ উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে তিনি নিয়মিতভাবে থানার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা, বিশেষ অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছেন। অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারে তাঁর তদারকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সম্প্রতি সময়ে রায়গঞ্জে সংঘটিত বেশ কয়েকটি আলোচিত ধর্ষণ, হত্যা, ছিনতাই, মাদক কারবার, চুরি, সংঘর্ষ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বিভিন্ন ঘটনায় দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
শুধু অপরাধ দমনই নয়, জনদুর্ভোগ কমাতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান। উপজেলার ভুইয়াগাঁতী, চান্দাইকোনা, ধানগড়া ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানজট নিরসনে বিশেষ টহল ও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধভাবে সড়ক দখল, যানবাহনের বিশৃঙ্খল পার্কিং এবং জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়—এমন বিষয়গুলোতেও তিনি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
এছাড়াও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে তাঁর নেতৃত্বে রায়গঞ্জ সার্কেলের পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব, অপপ্রচার কিংবা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ঘটনার ক্ষেত্রেও পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। কোনো ঘটনা ঘটলেই দ্রুত প্রকৃত তথ্য যাচাই করে জনগণকে অবহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের অনেকেই মনে করেন, পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধিতে সাইফুল ইসলাম খানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রায়ই জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন এবং বিভিন্ন অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নেন। ফলে সাধারণ মানুষ পুলিশি সেবা গ্রহণে আগের তুলনায় বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষতার কারণে জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রায়গঞ্জে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসনের চলমান কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যেই রায়গঞ্জবাসীর কাছে একজন কর্মঠ ও সফল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে প্রশংসিত হয়েছেন।
মন্তব্য করুন