খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
জানা যায়, সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) খাদিজা খাতুন বদলি হওয়ার পর নতুন এসিল্যান্ড হিসেবে মাসুদ রানা রায়গঞ্জে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি পূর্বের জমে থাকা নামজারি, মিস কেসসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় দেড় হাজার নামজারি মামলা নিষ্পত্তি করে ভূমি অফিসের কার্যক্রমে গতি আনেন তিনি।
কিন্তু ভূমি অফিসের এই গতিশীল কার্যক্রম বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। যোগদানের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা পাঁচ মাসের প্রশিক্ষণে চলে যান। একই সময়ে কানুনগো পেশনে জেলা সদরে দায়িত্ব পালন করতে যান। এ ছাড়া সার্ভেয়ার লিখন অন্যত্র বদলি হলে তাঁর স্থলে সার্ভেয়ার আলতাব হোসেন যোগদান করেন। কিন্তু যোগদানের মাত্র এক মাসের মাথায় পদোন্নতি পেয়ে তিনিও অন্যত্র বদলি হন।
পরবর্তীতে পেশন থেকে ফিরে কানুনগো আব্দুল রকিব রায়গঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে যোগদান করেন। কিন্তু মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনিও বদলি হন। দীর্ঘ পাঁচ মাসের প্রশিক্ষণ শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদ রানা কর্মস্থলে ফিরে যোগদান করলেও মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনিও অন্যত্র বদলি হন।
এভাবে গত ছয় মাসে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, বদলি ও পদায়নের জটিলতায় উপজেলা ভূমি অফিসে প্রয়োজনীয় জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ভূমি সেবা কার্যক্রম অনেকটা খুঁড়িয়ে চলছে বলে অভিযোগ সেবাপ্রত্যাশীদের।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি, মিস কেসসহ বিভিন্ন ভূমি সংক্রান্ত কাজের জন্য দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে সেবা না পাওয়ায় সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষকে একাধিকবার উপজেলা ভূমি অফিসে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে।
বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল খালেক পাটোয়ারী ভারপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একদিকে ইউএনও হিসেবে তাঁর ওপর রয়েছে নানা প্রশাসনিক দায়িত্ব, অন্যদিকে শারীরিক অসুস্থতার বিষয়ও রয়েছে। ফলে ভূমি অফিসের নিয়মিত কার্যক্রমে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, উপজেলা ভূমি অফিসে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন এবং কর্মকর্তাদের স্থিতিশীলভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের জমে থাকা নামজারি ও মিস কেসসহ অন্যান্য আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, ভূমি অফিসে পর্যাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকলে সরকারের ভূমি সেবা ডিজিটাল ও সহজ করার উদ্যোগও কাঙ্ক্ষিত সুফল দেবে না। তাই সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।
মন্তব্য করুন