খবর ২৪ ঘন্টা , ডেস্ক
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও অন্যান্য সহযোগী দেশের সহায়তায় যাচাইকৃত বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে তারা প্রস্তুত।
তবে একই বিবৃতিতে মিয়ানমার দাবি করেছে, ‘রোহিঙ্গা’ নামে কোনো স্বতন্ত্র জাতিগত সত্তার ঐতিহাসিক অস্তিত্ব দেশটিতে কখনো ছিল না।
পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস’-এরও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জান্তা সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তর।
মিয়ানমারের এমন অবস্থানের পর প্রত্যাবাসিত রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা, যে রাষ্ট্র এখনো রোহিঙ্গাদের নিজস্ব পরিচয় স্বীকার করে না, সেখানে তাদের ফেরত পাঠানো হলে তারা আবারও নির্যাতন, বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুখে পড়তে পারেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুকূল পরিবেশ বর্তমানে মিয়ানমারে নেই।
এদিকে মালয়েশিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী ফাহমি ফাদজিলও আশ্বস্ত করেছেন, জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে—এমন কোনো পরিস্থিতিতে কাউকে জোরপূর্বক মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে না।
২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ব্যাপক দমন-পীড়ন ও সহিংসতার মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা ও একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও এই বিপুল জনগোষ্ঠীর নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে মালয়েশিয়াতেও প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন। এমন পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের সর্বশেষ অবস্থান রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন