মোঃ পারভেজ আলী , স্টাফ রিপোর্টার
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বড়ধূল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আয়নাল প্রামাণিক।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত রোববার বড়ধূল ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ করা জিআর (জেনারেল রিলিফ) চাল দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় ৮-১০ জন ব্যক্তি সাংবাদিকদের বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে রেজাউল নামে একজন তার কাছে এসে অভিযোগ করেন, একজনকে চালের ‘ডাবল স্লিপ’ দেওয়া হয়েছে।
আয়নাল প্রামাণিকের দাবি, ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, ৩০ হাজার টাকা না দিলে তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে সামাজিকভাবে হেয় করা হবে। তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, চাল বিতরণ সরকারের নিযুক্ত ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে হচ্ছে এবং তিনি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নন।
তার অভিযোগ, এরপরও রেজাউল টাকা দাবি করতে থাকেন এবং টাকা না দিলে মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে সামাজিক অবস্থানের কথা বিবেচনা করে তিনি মানুষের কাছ থেকে ধার করে রেজাউল ও তার সহযোগী সারোয়ারকে ১০ হাজার টাকা দেন। টাকা নেওয়ার পর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে দাবি করেন তিনি।
প্যানেল চেয়ারম্যান আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে তিনি লোকমুখে জানতে পারেন—রেজাউল তার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি রেজাউলকে ফোন করলে কথিত ওই সাংবাদিক তাকে বলেন, দাবিকৃত টাকা দিলে এমনটা করা হতো না—এমন দাবি করেন আয়নাল প্রামাণিক।
সংবাদ সম্মেলনে আয়নাল প্রামাণিক অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে রেজাউলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি বিএনপির নাম ব্যবহার করে যাতে কেউ চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে না পারে, সে বিষয়ে সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বড়ধূল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবুতাহের লাবলু, বিএনপি নেতা মফিজ উদ্দিন, জেলহক, শাহান তালুকদার, সুমন শেখসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রেজাউলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
মন্তব্য করুন